দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিবেশ উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীরতর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শেরাটন বনানীতে অ্যামচ্যামের মধ্যাহ্নভোজ ও নীতি সংলাপে তিনি বলেন, সহায়তানির্ভর সম্পর্কের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যভিত্তিক অংশীদারিত্বে জোর দিচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি ‘এআরটি’ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে পারে। এ চুক্তির আওতায় প্রতিযোগিতামূলক ১৯ শতাংশ শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বজায় থাকবে, যা না হলে ৩৫ শতাংশ হতে পারত।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ৩৫০ কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য এবং আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য আমদানির অঙ্গীকার করেছে। এগুলোকে তিনি সহায়তা নয়, পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে পূর্বানুমানযোগ্য নীতি, চুক্তির নিশ্চয়তা, স্বচ্ছতা এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, লাইসেন্সিং সহজ করা, কাস্টমস ডিজিটালাইজেশন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শ্রম পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে বাংলাদেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো, আর্থিক প্রযুক্তি, রেল, বন্দর ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বড় বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হতে প্রস্তুত।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব মানে স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও টেকসই উন্নয়নের সুযোগ। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে বলেন, এখন কাঠামো থেকে বাস্তবায়নে যাওয়ার সময়।
বক্তব্যের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত, আমি প্রস্তুত, বাংলাদেশও প্রস্তুত—এখন যৌথ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার সময়।’
এমএস/